প্রকাশিত: ১৭ মার্চ, ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
পবিত্র ঈদুল ফিতর ও এর পরবর্তী দিনগুলোতেও আল আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল।
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের মসজিদটির প্রশাসনিক বিষয়াবলির সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্র মিডল ইস্ট আই-কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি আল আকসা তদারকির দায়িত্বে থাকা ইসলামী ওয়াকফ কমিটি-কে তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানিয়েছে।
সূত্র বলছে, বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-এর চলমান সংঘাতকে আড়াল করে ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতি’র অজুহাতে চলতি মাসের শুরু থেকেই মসজিদটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা এটিকে নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন এবং অভিযোগ করছেন, নিরাপত্তার অজুহাতে আল আকসার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।
১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর এই প্রথম রমজান মাসে ফিলিস্তিনিরা আল আকসায় জুমার নামাজ আদায়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলেন। এর ফলে মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
মসজিদ বন্ধ থাকার পর থেকে প্রতিটি শিফটে মাত্র ২৫ জন ওয়াকফ কর্মী প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত একজন কর্মী ঢুকলে কট্টরপন্থী ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের মসজিদে প্রবেশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। ওয়াকফ কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, মসজিদের প্রধান নামাজের হল ও ডোম অব দ্য রক-এর ভেতরে গোপন নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে।
জেরুজালেমের পুরোনো শহর কার্যত অবরুদ্ধ রাখা হয়েছে। শুধুমাত্র স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, ফলে একসময়কার প্রাণচঞ্চল এলাকা এখন প্রায় জনশূন্য। তবে ঠিক বাইরে স্বাভাবিক জনজীবন বিরাজ করছে, যা পরিস্থিতির বৈপরীত্য আরও স্পষ্ট করছে।
গত রোববার পবিত্র লাইলাতুল কদরের রাতে শত শত পুলিশ মোতায়েন করে আল-আকসার সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে হাজার হাজার মুসল্লি বাধ্য হয়ে রাজপথে নামাজ আদায় করেন।
আল আকসা মসজিদের অধ্যাপক ড. মুস্তফা আবু সোয়ে বলেন, “পুরোনো শহরের ভেতর ও বাইরের পরিস্থিতির এই তীব্র পার্থক্য বিস্ময়কর। যদি সত্যিই নিরাপত্তার প্রশ্ন থাকত, তবে মসজিদের বিশাল ভূগর্ভস্থ স্থানগুলো আশ্রয়ের জন্য ব্যবহার করা যেত।”
ওয়াকফ কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক পরিচালক আউনি বাযবায সতর্ক করেছেন, সাময়িক অজুহাতে আরোপিত বিধিনিষেধ স্থায়ী রূপ নিতে পারে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো দখলদার শক্তি অধিকৃত অঞ্চলে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে না। কিন্তু ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই আল-আকসার ঐতিহাসিক মর্যাদা লঙ্ঘন করে আসছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন