প্রকাশিত: ৫ মে, ২০২৬, ০২:৫৩ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
রিয়াল মাদ্রিদের সাদা জার্সির আর্মব্যান্ড—যা একসময় ছিল গৌরব আর নেতৃত্বের প্রতীক, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেটাই যেন পরিণত হয়েছে বিদায়ের শেষ অলংকারে। ২০২১ সাল থেকে চিত্রনাট্যটা অভিন্ন ও করুণ—যিনিই মৌসুম শুরু করেন প্রথম অধিনায়ক হয়ে, মৌসুম শেষে তাঁকেই গুছিয়ে নিতে হয় স্যুটকেস।
এ তালিকার সূচনা হয়েছিল রক্ষণদুর্গের ‘এল কাপিতানো’ সের্হিও রামোসকে দিয়ে। ২০২১ সালে দায়িত্ব নিয়ে বার্নাব্যুতেই ক্যারিয়ার শেষ করার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু মৌসুম শেষে অশ্রুসিক্ত বিদায়ই সম্বল হলো। ২০২২ সালে আর্মব্যান্ড উঠল বাঁ-পায়ের শিল্পী মার্সেলোর হাতে। চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা হাতে তুলেও তিনিও গেলেন সেই একই পথে—ক্লাব ত্যাগ।
২০২৩ সালে করিম বেনজেমা নিলেন দায়িত্ব। গোলমেশিন এই ফরাসি স্ট্রাইকারও পারলেন না ‘অভিশাপ’ কাটাতে। রিয়ালের এক নম্বর নেতা হয়েও মৌসুম শেষে পাড়ি দিলেন সৌদির মরুভূমিতে। ২০২৪ সালে এলেন ক্লাবের নিজস্ব একাডেমি ‘লা ফাব্রিকা’র ফসল নাচো ফার্নান্দেজ। রক্তে-ঘামে রিয়ালের মানুষ হয়েও তিনি রেহাই পেলেন না। বিদায়ী সংবর্ধনা নিয়েই ছাড়তে হলো ক্লাব।
২০২৫ সালে অধিনায়কের ফিতে বাঁধলেন কিংবদন্তি লুকা মদরিচ। মাঝমাঠের এই জাদুকর নিজের অর্জনের ডালি সাজিয়ে শেষে পাড়ি জমালেন এসি মিলানে। টানা পাঁচ মৌসুমে পাঁচ অধিনায়কের বিদায়—জার্সির ওই ফিতে এখন যেন এক মৌসুমি পাসপোর্ট, মেয়াদ ফুরোলেই ইমিগ্রেশন!
এখন সেই জ্বলন্ত উত্তরাধিকারের সামনে দানি কারভাহাল। ২০২৪ সালের অক্টোবরে রিয়াল তাঁর চুক্তি বাড়িয়েছিল ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। সংখ্যার হিসেবে তা আশ্বাস জোগালেও বাস্তবতা ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। সম্প্রতি ডান পায়ের চোটে ভোগা এই ডিফেন্ডারকে ঘিরে শঙ্কা বাড়ছে। ফুটবল-মহলের পুরোনো প্রবাদ—রিয়াল মাদ্রিদ আবেগের চেয়ে মস্তিষ্ক দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। ইতিহাস এখানে আত্মরক্ষার বর্ম হয়ে ওঠে না। বয়স ও ফিটনেস বিবেচনায় ক্লাব যখন নবীন রক্তের দিকে ঝোঁকে, তখন পেছনের অর্জনগুলো সাজিয়ে রাখা হয় কেবল শোকেসের ভেতর।
প্রশ্ন এখন একটাই—কারভাহাল কি ভাঙতে পারবেন এই অভিশপ্ত চক্র, নাকি তিনিও পরিণত হবেন রামোস-বেনজেমা-মদরিচদের দীর্ঘ তালিকার আরেকটি নামে?
মন্তব্য করুন