শুক্রবার   ০৪ এপ্রিল ২০২৫   চৈত্র ২০ ১৪৩১   ০৫ শাওয়াল ১৪৪৬

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৪৩৮

বিটিভির জেনারেল ম্যানেজার মাহফুজা আক্তার সৃজনশীলতার পথিকৃত  

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ৭ মার্চ ২০২৪  

যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, সৃজনশীলতায়   ব্যক্তি যখন অন্যদের ছাড়িয়ে অভিষ্ট্য লক্ষে পৌঁছে যায়, তখন তিনি আর ব্যক্তি থাকেননা, পরিণত হন প্রতিষ্ঠানে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার মাহফুজা আক্তার। তিনি স্বীয় কর্মগুণে সৃষ্টিশীলতায় নতুনত্ব আর নান্দনিকতায় চমক দেখিয়েছে।  

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায়,


" বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, 
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী 
অর্ধেক তার নর "  

 

কবির কালজয়ী এই পংক্তিমালা বিটিভির জেনারেল ম্যানেজার মাহফুজা আক্তারের ক্ষেত্রে শতভাগ প্রযোজ্য। 

তিনি  সততার পাশাপাশি , দক্ষ সংগঠক ও  প্রশাসক হিসেবে   কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিল্পী,কলা কৌশলীদের  কাছে নিজের অবস্থান পোক্ত করতে সমর্থ হয়েছেন। হয়েছেন  জনপ্রিয়। 

 

 বাংলাদেশ টেলিভিশনকে  ডিজিটালাইজেশন করতে   সফলতার ষোলকলা পূর্ণ করেছেন তিনি। 
বিটিভির তালিকাভূক্ত বিভিন্ন জেলা উপজেলার   ৮৪% শিল্পীর  সম্মানি অনলাইন - ই এফ টি এন'র মাধ্যমে পরিশোধ করছেন।   এসএমএস এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের নাম,  অনিয়ারের সময় সংশ্লিষ্ট  শিল্পীদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রতিটি শিল্পী, কলা কৌশলী বিষয়টি নিয়ে দারুণভাবে পুলকিত। 

 

মাহফুজা আক্তার দায়িত্ব গ্রহনের পর  বহুল প্রতক্ষিত কন্ঠশিল্পী তালিকাভুক্ত করন বছাই প্রক্রিয়া সফলতার সাথে শেষ করা হয়েছে। প্রায় ৭ হাজার অংশগ্রহকারির মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৭ শত শিল্পী চূড়ান্ত ভাবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। পুরো প্রক্রিয়াটি সুন্দরভাবে শেষ করে  মাহফুজা আক্তার প্রশংসায় ভাসছেন। 

 

নতুন নাট্য শিল্পী,  গীতিকার,নৃত্যশিল্পী ও বাদ্যযন্ত্রীদের তালিকাভুক্তীকরণ প্রক্রিয়ার কাজ শুরু করেছেন তিনি। এছাড়া সকল শাখার তালিকাভুক্ত  শিল্পীদের শ্রেণী উন্নয়ন কাজ চলছে।  সংসদ সচিবালয়ে ক্যামেরা প্রতিস্থাপন ও এইচডি সম্প্রচার উন্নীতকরণ করেছেন মাহফুজা আক্তার ।   

 

তার উদ্যোগে নিউজ স্টুডিও আধুনিকীকরণ,  টিভি ভবনের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাঙ্গণ সুসজ্জিত করণ হয়েছে। মানসম্মত অনুষ্ঠান নির্মাণ,যেমন মঞ্চ নাটক, বিশ্ব নাটক, ধারাবাহিক নাটক, সাপ্তাহিক নাটক ও শিশুতোষ নাটক নির্মাণ করে  সম্প্রচারের উদ্যোগ গ্রহণ, সেই সাথে তালিকাভুক্ত শিল্পীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের  উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। 

 

মানসম্মত অনুষ্ঠান নির্মানে যথাযথ ব্যয় নির্ধারণ, ও ব্যয় সংকোচনের ফলে সরকারের আর্থিক সাশ্রয় হয়েছ। যেকারণে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিটিভিতে বাজেটের কোন ঘাটতি নেই এবং অনুষ্ঠান নিয়মিত নির্মাণ ও প্রচার হচ্ছে, ফলে শিল্পীরা নিয়মিত অনুষ্ঠানে অংশ  গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।  অথচ গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতির কারণে টিভিতে দীর্ঘ ৩ মাস অনুষ্ঠান নির্মাণ বন্ধ ছিল। ফলে শিল্পীদের মনে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল তা নিরসন হয়েছে। এছাড়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন পূর্ববর্তী সময় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনসচেতনতা মূলক অনুষ্ঠান নির্মাণ ও সম্প্রচার করেছেন তিনি। 

কর্মকর্তা কর্মচারীদের কাজের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশে ও বিদেশে প্রশিক্ষণ ও সেমিনারে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন তিনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরকালে ব্যাকপ্যাক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরাসরি অনুষ্ঠান সম্প্রচারের সফল উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তিনি, যা পূর্বে কখনো সম্ভব ছিল না। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সরাসরি সম্প্রচারের সমস্যা সমাধান করেছেন মাহফুজা আক্তার। 

 

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান মালায়  বিটিভির সকল অনুষ্ঠান নির্মাণে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা হিসেবে তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। সে সময় সকল অনুষ্ঠান নির্মাণে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে তিনি দিনরাত পরিশ্রম করেছেন।
 
মাহফুজা আক্তার দক্ষ  নির্মাতা সম্প্রতি জার্মানির প্রিক্স জুনেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল শিশুতোষ অনুষ্ঠান প্রতিযোগিতা ২০২৪'এ মাহফুজা আক্তার এর পরিচালনায় শিশুতোষ নাটক “যাদুর পেন্সিল” পুরস্কারের জন্য শর্ট লিস্ট এ আছেন।

তিনি বিবিসি,এনএইচ কে জাপান এবিসি, এসবিসি, অষ্টেলিয়া, এবিইউ ,এবং বিডি মালোশিয়া হতে টেলিভিশন অনুষ্ঠান এর উপর প্রশিক্ষন গ্রহন করেন । জার্মানির প্রিক্স জুনেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত প্রিক্স জুনেস ইন্টারন্যাশনাল ২০২০ প্রতিযোগিতা ও মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত এবিইউ পুরস্কার ২০১৮ এ জুরি বোর্ডের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।  এছাড়াও তিনি ওকেপি বৃত্তির আওতায় ফেলোশিপ অর্জনের মাধ্যমে রেডিও নেদারল্যান্ডস ট্রেনিং সেন্টার (আরএনটিসি) হতে এক বছর মেয়াদি ‘ড্রামা ফর সোশ্যাল চেঞ্জ’ কোর্স সম্পন্ন করেছেন। 

 

২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি জাইকা ও এটুআই–এর অর্থায়নে পরিচালিত বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নমূলক তিন বছর মেয়াদি একটি প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন।এছাড়া তিনি এবিইউ, ইবিইউ, এআইবিডি, এনএইচকে ওয়ার্ল্ড, কেবিএস, টোকিও ডকস , জাইকা, ইউনেস্কো, ওয়ান এশিয়া প্রজেক্ট, এবিসি অস্ট্রেলিয়া, এসবিএসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে যৌথ–প্রযোজনার মাধ্যমে অনুষ্ঠান নির্মাণ করেন।

 

তিনি কালারস অব এশিয়া ২০১৭, ওয়ান এশিয়া ২০১৮, পিএমএ গ্লোবাল গ্রান্ট ২০১৯ এবং জাপান প্রাইজ ২০২০ (শীর্ষ পাঁচ ফাইনালিস্ট) সহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছেন।

এই বিভাগের আরো খবর