আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা ঘিরে উত্তেজনা, ইসরাইল বলছে ‘বাধ্য নই’

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা চুক্তির ঘোষণা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ঘোষিত এই চুক্তির পরপরই ইসরাইলে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে এবং দেশটি জানিয়েছে, তারা এই চুক্তির শর্ত মানতে বাধ্য নয়।

রোববার (১৪ জুন) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়ে সম্মতি হয়েছে। তিনি আরও জানান, তুরস্ক, কাতার ও সৌদি আরব আলোচনায় ভূমিকা রেখেছে এবং চুক্তিটি সুইজারল্যান্ডে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা।

পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটিকে ‘সম্পূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেন। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘিরাবাবাদি জানান, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত স্বাক্ষর সম্পন্ন হবে।

তবে এই ঘোষণার পর ইসরাইলি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তারা এই চুক্তির শর্ত মানতে বাধ্য নয়। একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর একাধিক হামলার খবর পাওয়া গেছে।

ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছেন, লেবাননসংক্রান্ত কোনো শর্ত তারা মেনে নেবে না। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেন, ইসরাইলি সেনারা লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় ‘নিরাপত্তা জোনে’ অনির্দিষ্টকাল অবস্থান করবে। তিনি আরও জানান, দখলকৃত এলাকার বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া হবে এবং সেসব স্থাপনাকে ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ হিসেবে বিবেচনা করে ধ্বংস করা হতে পারে।

চুক্তি নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ একে ইসরাইল ও ‘মুক্ত বিশ্বের’ জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে এককভাবে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেন। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতেমার বেন গাভির বলেন, এই চুক্তি ইসরাইলের জন্য বাধ্যতামূলক নয় এবং দেশটি কোনো অধীন রাষ্ট্র নয়।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী মিকি জোহার বলেন, ইসরাইল কেবল তখনই পদক্ষেপ নেবে, যখন তার নিরাপত্তা সরাসরি হুমকির মুখে পড়বে।

এদিকে ইসরাইলি গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তীব্র সমালোচনা করেছে। কিছু মন্তব্যে বলা হয়েছে, এই চুক্তির মাধ্যমে ইসরাইলকে কার্যত একা ফেলে দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে দেশটির স্বাধীন কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।

ইসরাইল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ফোরাম (আইডিএসএফ) এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তিই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে এবং বর্তমান চুক্তিও তার ব্যতিক্রম নয়। তারা ইসরাইলকে সম্ভাব্য হুমকির জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

বিরোধী রাজনৈতিক শিবির থেকেও সমালোচনা এসেছে। বিরোধী নেতা ইয়ার গোলান বলেন, এই চুক্তির ফলে ইসরাইল আরও দুর্বল অবস্থানে পড়েছে। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের মতে, চুক্তিটি ইসরাইলের নিরাপত্তা উদ্বেগ সমাধানে ব্যর্থ। আর সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বর্তমান সরকারকে অদক্ষ উল্লেখ করে বলেন, তাদের সিদ্ধান্তহীনতা দেশকে আরও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

মন্তব্য করুন